সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬, ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

দেশে কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩০ জুলাই ২০২৫, ১৬:৩০

‘জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি শুধু উপকারী নয়, বরং এখন তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

আজ বুধবার (৩০জুলাই) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস মিলনায়তনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা ও করণীয় বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে গবেষণা ফল বিনিময়সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই ও অভিযোজনযোগ্য জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি ও চর্চাবিষয়ক সমন্বিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজনযোগ্য কৃষি কৌশল ও নীতিমালা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়, যা সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকে সরাসরি সুবিধা দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশনের পানি, খাদ্য ও জলবায়ু বিভাগের বিশেষজ্ঞ মিল্টন কুমার সাহা। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক জনগণ ও প্রতিবন্ধীরা।

তাই তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি দরকার।’
সভায় ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান বলেন, ‘অ্যাকসেস প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়, তাহলে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করা সম্ভব।’

হেলভেটাস-এর পক্ষ থেকে পানি, খাদ্য ও জলবায়ু খাতের ব্যবস্থাপক মাওলানা আয়াতুল্লাহ আল মামুন,বলেন, ‘জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য পথ।’

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। গবেষণায় ১০টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ৩৫০ জন কৃষকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির মধ্যে জল-সাশ্রয়ী চাষাবাদ, জৈব সার ব্যবহার, লবণসহিষ্ণু ধান ও সবজি জাত, উন্নত বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রভৃতি উপায় চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন দেশের কৃষি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষকরা। উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী; পানি খাদ্য ও জলবায়ু ব্যবস্থাপক আয়াতুল্লাহ-আল মামুন, রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. শোয়াইবুর রহমান, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এ. ওয়াদুদ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মঞ্জুরুল হাসান প্রমুখ।

বক্তারা আরো বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গবেষণানির্ভর সমাধান তৈরি করতে হবে। জলবায়ু অভিযোজনকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর